শুক্রবার, দুপুর ২:৫৫
২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি,

ঢাবির হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা

“ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে হলগুলোতে ছাত্রসংগঠনগুলো আচরণবিধি অনুসরণ করছে কি না তা তোমাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ ও প্রয়োজন,” শিক্ষার্থীদের বলেন উপাচার্য।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘এ মুহূর্তে খবর এলো, হল রাজনীতি নিষিদ্ধ হলো’ স্লোগান দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান। শনিবার গভীররাতে নিজের বাসভবনের সামনে তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটিই বহাল থাকবে এবং প্রত্যেক হল প্রশাসন এ নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

রাত ১২টার দিকে মুহসীন হল থেকে মিছিল নিয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হল হয়ে হল পাড়া ও ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রোকেয়া হলের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

সেদিন সকালে ঢাবির ১৮টি হলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপরই ওই কমিটি নিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে ও হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

এর মধ্যে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা ফটকের তালা ভেঙে বিক্ষোভে যোগ দেন। আন্দোলনকারীরা রাত ১টা পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।

এসময় তারা ‘জুলাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, হল পলিটিক্স নো মোর’, ‘গেস্টরুমের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘গণরুমের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হলে হলে রাজনীতি, চলবে না চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এরপর রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য বেরিয়ে এলে নিজেদের দাবি পেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, “আমরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে ১৭ জুলাইয়ের সেই অবস্থানে আছি। তবে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে হলগুলোতে ছাত্রসংগঠনগুলো আচরণবিধি অনুসরণ করছে কি না তা তোমাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ ও প্রয়োজন।”

এসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য।

এসময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মামুন আহমেদ, প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ ফারুক শাহ উপস্থিত ছিলেন।

কা/ত/মা

Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *