শুক্রবার, দুপুর ১:৩৬
২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি,

শেখ মুজিব: ইতিহাস, আদর্শ ও বিতর্কের প্রতিফলন

|| কাজী মাজহারুল ইসলাম ||

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমান এক এমন নাম, যাকে কেউ ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসনে বসান, কেউ আবার তীব্র সমালোচনার চোখে দেখেন। স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে তাঁর অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু শাসনকাল ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন কম নেই।

আমরা যারা ১৯৭১ বা ১৯৭৫-এর ঘটনাগুলো দেখিনি, তারা শেখ মুজিবকে চিনি মূলত পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে—বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসন দেখে। আওয়ামী লীগের কাছে শেখ মুজিব শুধু একজন রাজনীতিক নন, বরং দলের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। আর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন শেখ হাসিনা, যাকে দলীয় ইতিহাসে প্রায় ‘নিকটতম সহচর’ হিসেবে দেখা হয়।

কিন্তু এখানেই আসে বিতর্ক।

শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা—যেমন শাপলা চত্বরের রক্তপাত, পিলখানা ট্র্যাজেডি, মোদি বিরোধী আন্দোলনের দমন, পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ, নজরদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, এবং জুলাই ২০২৪-এর ঘটনাবলি—অনেককে ভাবতে বাধ্য করেছে, যদি এগুলোই শেখ মুজিবের রাজনৈতিক আদর্শের ফল হয়, তবে সেই আদর্শের চরিত্র আসলে কী?

কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান রূপই শেখ মুজিবের রেখে যাওয়া আদর্শের প্রতিফলন। আবার অন্যরা যুক্তি দেন, বর্তমান রাজনীতি আসল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। সত্যি কোনটা—তা ইতিহাসবিদরা বিচার করবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে বর্তমান কার্যকলাপই সেই আদর্শের মুখচ্ছবি।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে যায়—যে আদর্শ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে, বিরোধী মতকে দমন করে, এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, তার জনককে কিভাবে মূল্যায়ন করা উচিত? উত্তরটা সহজ নয়, কিন্তু প্রশ্নটি অনিবার্য।

Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *