ফাইল ছবি
বাংলাধ্বনি নিউজ ডেস্ক, ১৮ এপ্রিল ২০২৫ | ইসা*রাঈল সারা বিশ্বের জন্য একটি বিষফোঁড়া। আইন করে ভারতে মুসলিমদের অধিকার হরণ করা যাবে না।
১৮ এপ্রিল (শুক্রবার) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব এ সব কথা বলেন।
আফেন্দী বলেছেন, গত ১৮ মার্চ হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই করে তা ভেঙ্গে দিয়েছে ইসরাঈল। গাজায় ব্যাপকভাবে গণহত্যা চালিয়ে মানবতা ও মানবাধিকারকে পদদলিত করে চলেছে এই হায়েনারূপী অবৈধ দখলদার রাষ্ট্র। বিগত ৬ সপ্তাহ ধরে ফিলিস্তিনের সীমানায় কোন সহায়তাসামগ্রী ঢুকতে দিচ্ছে না ইস*রাঈল। গত এক মাসে গাজার ৫ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। সুতরাং এই মূহুর্তে ইসরাঈল সারা বিশ্বের জন্য একটি বিষফোঁড়া, তাকে থামাতে হবে। তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং তাকে দুর্বল ও ধ্বংস করতে তার সকল প্রকার পন্য বয়কট করার কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে এই বয়কট আন্দোলন আরো জোরদার করতে হবে।
তিনি আরো বলেছেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল বিতর্কিত ওয়াকফ বিল স্থগিত ঘোষণা করেছে। আমরা কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানাই। মূলত ভারতের প্রায় ১০ লক্ষ একর ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য মাদ্রাসা-মসজিদ বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েই এই বিতর্কিত বিলটি পাশ করা হয়। ভারতের বিজেপি সরকারের মনে রাখা উচিৎ যে, একের পর এক এ রকম কালো আইন করে কখনোই মুসলিমদের অধিকার হরণ করা যাবে না।
গাজায় অব্যাহত গণহত্যা, ভারতে বিতর্কিত ওয়াকফ বিল পাশ ও মুসলিম অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের অন্যতম সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আরব রাষ্ট্রগুলোর কর্তব্য হল: চলমান ইসরাঈলি বর্বরতার বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ইসরাঈলকে কোন রকম ছাড় দেওয়ার অর্থই হচ্ছে মানবতাকে সুরক্ষিত রাখার পরিবর্তে ধ্বংস করে দেওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা পৃথিবীতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না” সুতরাং ইসরাঈলের নৈরাজ্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।
দলের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী, ঢাকা মহানগর উত্তর জমিয়তের সভাপতি মুফতী মকবূল হোসাইন কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা তালহা ইসলাম,পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম,ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি মাওলানা এখলাসুর রহমান রিয়াদ ও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের বর্তমান সভাপতি মাওলানা রিদওয়ান মাজহারী।
উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা নূর মোহাম্মাদ কাসেমী,শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুফতী জাবের কাসেমী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাবেক সেক্রেটারী মাওলানা হুযায়ফা উমর,বর্তমান সেক্রটারী মাওলানা কাউসার আহমদ,জমিয়ত নেতা মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী,মাওলানা রূহুল আমীন নগরী ও যুবনেতা মাওলানা মাবরুরুল হক, ছাত্র জমিয়তে সহ-সভাপতি মাওলানা সাব্বির আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন প্রমুখ।
-কা/ত/মা