ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নূরুল হক নূরের উপর হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নূরের রক্তাক্ত ভিডিও দেখে জনমনে বিস্ময় আর ক্ষোভ—এমন ঘটনার স্থান এই সময়ে কোথায় হতে পারে!
নূরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তার বক্তব্যের ধরন অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম ও ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাগরণ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার সূচনা হয়েছিল নূরের নেতৃত্বেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী অধিকাংশ তরুণই কোনো না কোনোভাবে নূরের আশেপাশেই প্রস্তুত হয়েছিল।
তার বাচনভঙ্গি নিয়ে হাস্যরস বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ট্রল থাকলেও নূরের অবদান তাকে অদ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে গেছে। ফলে তার ওপর যৌথ বাহিনীর এই হামলা নিছক একটি ‘ঘটনা’ নয়, বরং বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের গুঞ্জন এখন আরও জোরালো হচ্ছে। দলীয় কোন্দল, কমিটি পাল্টা কমিটি আর বহিষ্কারের নাটকের ভেতর দিয়ে ক্ষমতার নতুন অঙ্ক সাজানো হচ্ছে বলেও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া এই হামলা আরেকটি বাস্তবতাও সামনে আনে—প্রশাসনের ভাঁজে ভাঁজে এখনো ঘাপটি মেরে আছে আওয়ামী দোসররা। তারা সুযোগ পেলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৈনিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাই জুলাই-পরবর্তী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
জুলাই শক্তি যত বিভক্ত হবে, বিপদও তত বাড়বে। আর তাই, আওয়ামী দোসরদের প্রতিহত করতে জুলাই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এটাই প্রথম এবং শেষ বার্তা।
কা/ত/মা